ভুল || ইমদাদুল হক মিলন || Bhul by Imdadul Haq Milon
ইমদাদুল হক মিলন-এর ‘ভুল’ উপন্যাসটি অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত একটি আবেগঘন এবং মনস্তাত্ত্বিক গল্প। গল্পটি আবর্তিত হয়েছে আরজু এবং হায়াত সাহেব নামের এক দম্পতি, তাঁদের একমাত্র মেয়ে তুলি এবং ওমরের চারপাশ ঘিরে।
বইটির মূল কাহিনী সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
আশ্রয় ও রহস্যময় আগমন: হায়াত সাহেবের বিজ্ঞাপনী সংস্থায় (এডফার্ম) ‘ওমর ফারুখ চৌধুরী’ নামের এক হ্যান্ডসাম এবং অত্যন্ত নম্র-ভদ্র যুবক এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি পায়। ঢাকায় থাকার জায়গা নেই শুনে দয়ালু হায়াত সাহেব তাকে নিজের বাড়ির দোতলার গেস্টরুমে আশ্রয় দেন।
মায়ের মৃত্যুর করুণ গল্প: ওমর তার মিষ্টি ও মায়াবী কথাবার্তা দিয়ে খুব দ্রুতই হায়াত সাহেবের স্ত্রী আরজুর মন জয় করে নেয়। সে আরজুকে জানায় যে, সে ময়মনসিংহের এক কোটিপতি ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের একমাত্র সন্তান। তার মা রবীন্দ্রসঙ্গীত ও কবিতা ভালোবাসতেন, কিন্তু বাবার নির্মম অবহেলা এবং ঢাকায় অন্য এক মহিলার সাথে গোপন সংসারের কথা জানতে পেরে তিনি অভিমানে প্যারালাইসড হয়ে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর চল্লিশ দিন পার করে ওমর বাবার অগাধ সম্পত্তি ত্যাগ করে মাত্র আড়াই হাজার টাকার চাকরি নিয়ে ঘর ছেড়ে চলে এসেছে। এই করুণ কাহিনী শুনে আরজু ওমরের প্রতি গভীর অপত্য স্নেহে অন্ধ হয়ে যান এবং তাকে নিজের ছেলের মর্যাদা দেন।
তুলির সাথে প্রেম: হায়াত সাহেবের একমাত্র মেয়ে তুলির সাথে প্রথমদিকে একটু খুনসুটি ও ভুল বোঝাবুঝি হলেও, খুব দ্রুতই সে ওমরের সুন্দর উচ্চারণ, ব্যক্তিত্ব এবং কবিতা আবৃত্তির প্রেমে পড়ে যায়। ওমরের মায়ায় তুলি নিজের সব কিছু সঁপে দিতে প্রস্তুত হয়। আরজু এবং হায়াত সাহেবও তাদের এই সম্পর্ককে পবিত্র মনে করে মেনে নেন এবং ঘরজামাই বা ছেলের মতো করে ওমরের সাথে তুলির বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সত্যের উন্মোচন ও ট্র্যাজেডি: বিয়ের আগে ওমরের বংশমর্যাদা ও বিস্তারিত খোঁজ নিতে হায়াত সাহেব তাঁর বিশ্বস্ত ও পুরনো কর্মচারী রায়বাবুকে গোপনে ময়মনসিংহে পাঠান। ময়মনসিংহে গিয়ে রায়বাবু জানতে পারেন ওমরের বলা সব কথাই ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। সে যে প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বলেছিল, তাঁর কোনো স্ত্রী মারা যাননি এবং ওমরের মতো তাঁর কোনো ছেলে নেই। ওমর অত্যন্ত নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে তার সুন্দর চেহারা ও মিষ্টি কথাকে অস্ত্র বানিয়ে এই পরিবারের সহানুভূতি ও বিশ্বাস অর্জন করেছিল।
উপন্যাসের শেষ ভাগে যখন এই চরম সত্য উন্মোচিত হয়, তখন আরজু ও হায়াত সাহেব তাঁদের মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবং ওমরের এই নির্মম প্রতারণায় স্তব্ধ ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মানুষের সুন্দর অবয়বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম মিথ্যা এবং ভুল জীবনের এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে।
