গোপনে || ইমদাদুল হক মিলন || Gopone by Imdadul Haq Milon
বইয়ের নাম: গোপনে
লেখক: ইমদাদুল হক মিলন
বইয়ের ধরণ: সামাজিক, রোমান্টিক ও রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস
বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের এক মনস্তাত্ত্বিক ও রহস্যঘেরা অনবদ্য উপন্যাস "গোপনে"। মানুষের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা গোপন প্রেম, পুরনো এক প্রতিশোধের আগুন, আর অতীতের এক ভয়ঙ্কর খুনের রহস্য—এই তিন সমান্তরাল স্রোত যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এই গল্পে।
গল্পের মূল চরিত্র শারমিন—বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চপল ও প্রাণবন্ত এক তরুণী। বসন্তের এক সকালে হালকা আকাশি রঙের টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি পরে, ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে যখন সে নিজেকে সাজাচ্ছিল, তখন তার মনে পড়ে যাচ্ছিল এক রহস্যময় যুবকের কথা। বিগত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে, সিঁড়ির পাশে কিংবা টিএসসিতে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা চোখে নিয়ে কে যেন তাকে নিঃশব্দে অনুসরণ করছে! মুখে কিছু না বললেও সেই যুবকের তীব্র চাহনি শারমিনের মনের অবচেতনে এক অদ্ভুত দোলা দিয়ে যায়।
কিন্তু আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া হলো না শারমিনের। মা মারা যাওয়ার পর থেকে বাবা জাহিদ সাহেব ভীষণ একাকী। আজ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে অফিস না গিয়ে মেয়েকে নিজের কাছে আগলে রাখতে চাইলেন বাবা। গল্পে গল্পে উঠে এল পরিবারের পুরনো দিনের সুখের স্মৃতি, মহেশখালী-কক্সবাজার আর সিলেটের সেই তুমুল বৃষ্টির দিনগুলোর কথা। কিন্তু এই পারিবারিক আবহের মাঝেই বাবা আচমকা শারমিনের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। ছেলে গালিব আহসান চৌধুরী—শিক্ষিত, অভিজাত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। জাহিদ সাহেব যখন মেয়ের বিয়ের জন্য বায়োডাটা আর ছবি প্রস্তুত করছেন, তখনই জানা যায় এক অদ্ভুত বিপত্তি—শারমিনের ছবি ও বায়োডাটা নাকি হারিয়ে গেছে! নাকি কেউ তা গোপনে সরিয়ে ফেলেছে?
এরই মাঝে বাবা জাহিদ সাহেব মেয়ের কাছে উন্মোচন করলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর এক গোপন সত্য। সাত বছর আগে, শারমিনের মায়ের মৃত্যুর ঠিক ভোররাতে, হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় উত্তরায় তাদের বাড়ির সামনের লেকের পাড়ে আবছা অন্ধকারে এক লোমহর্ষক দৃশ্য দেখেছিলেন তিনি। দুজন মানুষ টালমাটাল পায়ে হেঁটে লেকের ওপারে নেমে যাচ্ছে। পরবর্তীতে সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় হাত-পা বাঁধা এক বৃদ্ধের লাশ! সাত বছর ধরে বুকে চেপে রাখা এই খুনের ঘটনার সাথে কি জড়িয়ে আছে বর্তমানের কোনো রহস্য?
এদিকে ক্যাম্পাসের সেই চেইনস্মোকার রহস্যময় যুবক 'মাহি'—যার মানিব্যাগের গোপন পকেটে সবসময় শোভা পায় শারমিনের এক চিলতে মিষ্টি হাসির ছবি! শারমিনকে একদিন দেখতে না পেয়ে সে এতটাই উন্মুখ হয়ে ওঠে যে, বানোয়াট পরিচয় দিয়ে শারমিনের বান্ধবীদের সাথে কথা বলে, এমনকি সরাসরি ফোন করে বসে শারমিনের বাড়িতেও! কে এই মাহি? কেন সে শারমিনের পিছু নিয়েছে? সে কি কেবলই এক ব্যর্থ প্রেমিক, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অতীতের কোনো গভীর প্রতিশোধের গল্প?
ভালবাসা, সাসপেন্স আর মানুষের মনের জটিল মনস্তত্ত্ব নিয়ে গড়ে ওঠা এই উপন্যাসটি পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এক তীব্র কৌতূহলে বুঁদ করে রাখবে।
বইটির আকর্ষণীয় দিকসমূহ:
রোমাঞ্চ ও রহস্যের নিখুঁত বুনন: গল্পটি একাধারে একটি মিষ্টি প্রেমের আভাস দেয়, আবার অন্যপ্রান্তে অতীতের এক নৃশংস খুনের রহস্যকে টেনে আনে।
মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন: চরিত্রের ভেতরের দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধের স্পৃহা এবং "গোপনে" লালন করা আবেগগুলোকে লেখক অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ইমদাদুল হক মিলনের চিরচেনা শৈলী: মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন ও সাবলীল সংলাপের মাধ্যমে গল্পটি পাঠককে সহজেই আবিষ্ট করে ফেলে।
গোপন এই জটলা আর মনস্তাত্ত্বিক গোলকধাঁধার শেষ কোথায় জানতে আজই আপনার সংগ্রহে রাখুন "গোপনে"।
