অশনি সংকেত || বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় || Ashani Sanket by Bibhutibhushan Bandopadhyay
Download Size : 4 MB
অশনি সংকেত (অংশবিশেষ) – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
'অশনি সংকেত' কালজয়ী কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামাজিক ও ঐতিহাসিক উপন্যাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে তৈরি হওয়া ১৯৪৩ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর (বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ) কীভাবে এক শান্ত, নিভৃত পল্লীগ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনকে ওলটপালট করে দিয়েছিল, তারই এক জীবন্ত দলিল এই উপন্যাস।
মূল বিষয়বস্তু ও কাহিনীর সংক্ষেপ:
কাহিনী আবর্তিত হয়েছে নতুন গাঁ (চর পোলতা) নামক একটি অজ পাড়াগাঁকে কেন্দ্র করে, যেখানে কাপালী ও গোয়ালাদের বসবাস। গ্রামের একমাত্র ব্রাহ্মণ পরিবার গঙ্গাচরণ চক্কত্তি এবং তার রূপবতী ও দয়াময়ী স্ত্রী অনঙ্গ-বৌ। গঙ্গাচরণ গ্রামে পাঠশালা খুলে বসেছে, সামান্য কবিরাজি করে এবং গ্রামের মানুষের পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় কাজের বিধান দিয়ে বেশ প্রতিপত্তি ও সচ্ছলতার সাথে দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু তাদের এই শান্ত ও সুখের সংসারে ধীরে ধীরে ছায়া ফেলে যুদ্ধের করাল গ্রাস ও চালের আকাল।
সহজ-সরল গ্রামীণ জীবনের চমৎকার বর্ণনার মধ্য দিয়ে কাহিনীর শুরু হলেও, ধীরে ধীরে এক চরম বিপর্যয় নেমে আসে। যে বাজারে চালের মণ ছিল চার-ছয় টাকা, তা দেখতে দেখতে দশ টাকা এবং পরবর্তীতে কুড়ি টাকায় গিয়ে ঠেকে। শুধু টাকাই নয়, বাজারে পয়সা দিলেও কেরোসিন, নুন বা চাল মেলা দুষ্কর হয়ে পড়ে। আকালের এই নির্মম রূপ গ্রামীণ সমাজের চিরাচরিত ভাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়।
অনঙ্গ-বৌ: এক অনন্য মাতৃত্বের প্রতীক
কাহিনীর অন্যতম আকর্ষণীয় চরিত্র হলো অনঙ্গ-বৌ। চরম সংকটের দিনেও সে তার সুগৃহিণীপনা এবং পরোপকারী মানসিকতা হারায়নি। ব্রাহ্মণ পরিবারের মর্যাদা ভুলে সন্তানদের মুখে অন্ন জোগাতে সে গোপনে নিম্নবর্ণের কাপালীদের বাড়িতে গিয়ে ধান ভানার (ঢেঁকিতে পাড় দেওয়ার) কাজ শুরু করে। নিজের ঘরে অভাব থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধার্ত বুড়ো বামুন দীনু ভট্টাচার্য বা দরিদ্র দুর্গা পণ্ডিতের মতো অতিথিদের সে পরম আদরে নিজের পাত থেকে অন্ন ও ক্ষীর দিয়ে তৃপ্ত করে।
উপন্যাসের মূল আবেদন:
এই অংশে বিভূতিভূষণ খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ মানুষের চিরকালীন চেনা সমাজটাকে বদলে দেয়। উপন্যাসের শেষে দেখা যায়, ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ নদীর ধারের বুনো কচুর ডাঁটা শুধু সেদ্ধ করে খাচ্ছে এবং দূর-দূরান্ত থেকে কঙ্কালসার অনাহারী মানুষ এক মগ ভাতের ফ্যানের জন্য হাহাকার করছে।
মানুষের বেঁচে থাকার আদিম লড়াই, গ্রামীণ প্রকৃতির অমোঘ সৌন্দর্য এবং মন্বন্তরের নিষ্ঠুর বাস্তবতার এক অপূর্ব ও মর্মস্পর্শী সংমিশ্রণ এই 'অশনি সংকেত'।
No comments:
Post a Comment
Leave a comment