নিহত নক্ষত্র || আহমদ ছফা || Nihoto Nokkhotro by Ahmad Sofa
বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নাম: নিহত নক্ষত্র
লেখক: আহমদ ছফা
প্রথম প্রকাশ: ১৯৬৯ সাল
উৎসর্গ: অধ্যাপক শাহেদ আলী ও মুহম্মদ ওহিদউল্লাহ
ধরণ: ছোটগল্প সংকলন
নাম: নিহত নক্ষত্র
লেখক: আহমদ ছফা
প্রথম প্রকাশ: ১৯৬৯ সাল
উৎসর্গ: অধ্যাপক শাহেদ আলী ও মুহম্মদ ওহিদউল্লাহ
ধরণ: ছোটগল্প সংকলন
Download Size : 3 MB
মূল বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট
‘নিহত নক্ষত্র’ মূলত তৎকালীন পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) উত্তাল ও অরাজক রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পের সমাহার
সংকলনটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গল্পের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
১. নিহত নক্ষত্র (নামগল্প)
গল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র মুনতাসীর ও খালেদ এবং তরুণী তহুরাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে
মুনতাসীর: সে মেধাবী, প্রচারবিমুখ এবং নিজের স্বপ্নের জগতে বাস করা এক আদর্শবাদী যুবক
। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অরাজক পরিস্থিতিতে হকিস্টিকধারী গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে সে একাই ইটের স্তূপ নিয়ে রুখে দাঁড়ায় ।খালেদ: সে নিজেকে বস্তুবাদী ও শ্রমিক শ্রেণীর লেখক দাবি করলেও বাস্তবে সস্তা আবেগ ও রোমান্টিকতার বাইরে যাওয়ার সাহস তার ছিল না
।পরিণতি: মুনতাসীর সমাজ পরিবর্তনের দুর্বার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ‘অতন্দ্র’ নামের একটি নির্ভীক পত্রিকা প্রকাশ করে
। কিন্তু চরম অর্থকষ্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির কর্তন ও বন্ধুদের বিশ্বাসঘাতকতায় সে শহর ছেড়ে ডেমরার এক চটকলে শ্রমিকের জীবন বেছে নেয় । শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ রোগে (টিটেনাস) আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে তার মৃত্যু হয় । মুনতাসীর মূলত সেই "নিহত নক্ষত্র", যে আলোর মশাল জ্বালাতে গিয়ে নিজেই অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যায় ।
২. গন্তব্য
এই গল্পটি রুস্তম আলী নামের এক জোড়া খুনের ফেরারি আসামির মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক লড়াইয়ের কাহিনী
পাহাড়ের এক বেরহম পাঞ্জাবি ঠিকেদার জুমাখানের দাসত্ব ও বন্দিদশা থেকে রুস্তম তার আরও তিনজন সঙ্গী কুলি নিয়ে পালিয়ে আসে
। দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা ও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও রুস্তম আলী তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সঙ্গীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়
। গল্পটি মানুষের টিকে থাকার আদিম ও অদম্য সাহসের এক অনন্য দলিল ।
৩. পদাঘাতের পটভূমি
সমাজ ও তথাকথিত ধর্মীয় কাঠামোর নির্মমতার এক করুণ চিত্র এই গল্পটি
ছপুরা নামের এক হতদরিদ্র, সমাজ-পরিত্যক্তা নারী এবং তার সন্তান মতির জীবনসংগ্রাম এর মূল উপজীব্য
। তীব্র জ্বরে আক্রান্ত মতির চিকিৎসার জন্য ছপুরা পির সাহেবের দরগায় তার একমাত্র সম্বল পোষা লাল মোরগটি মানত করে এবং পানি-পড়া নিয়ে আসে
। কিন্তু কোনো চিকিৎসাতেই মতি বাঁচে না । পরবর্তীতে সেই মোরগটি দরগার ভক্তদের ইটের আঘাতে মারা গেলে শোকে ও ক্ষোভে উন্মাদিনী ছপুরা মরা মোরগটি নিয়ে মাজারের ভেতরে ঢুকে পিরের উদ্দেশ্যে তীব্র ধিক্কার জানায় এবং মাজারে লাথি মেরে নিজের সামাজিক ও মানসিক ক্ষোভ উগরে দেয়
।
৪. আস্বাদ
আলম নামের এক নীতিভ্রষ্ট, আদর্শহীন এবং যুবকের চারিত্রিক ও মানসিক অবক্ষয়ের গল্প এটি
পাঠ প্রতিক্রিয়া ও সাহিত্যিক মূল্য
আহমদ ছফা অত্যন্ত ধারালো ও মনস্তাত্ত্বিক ভাষায় গল্পগুলো বুনেছেন

No comments:
Post a Comment
Leave a comment